শায়খ ইবনে উথাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, শিশুরা তাদের শৈশবে যে অভ্যাস গড়ে তোলে, সেটি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনেও প্রভাবিত করে। তাই ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে ছোট থেকেই তাদের ইসলামী শিক্ষা ও শালীনতা শেখানো জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের সাত বছর বয়স থেকে নামাজ পড়ার আদেশ করতে বলেছেন এবং দশ বছর বয়সে নামাজ পড়তে না চাইলে তাদের হালকা শাসন করতে বলেছেন, যাতে তারা নামাজের গুরুত্ব বুঝে এবং এই অভ্যাস গড়ে ওঠে।
একটু ব্যাখ্যা করে বললে,
যদি একটি ছোট মেয়ে ছোট জামা (যা শুধু হাঁটু পর্যন্ত) বা ছোট হাতা জামা পরিধান করতে অভ্যস্ত হয়, তাহলে বড় হলে সে এ ধরনের পোশাক পরা চালিয়ে যেতে চাইবে এবং লজ্জা বা শালীনতা অনুভব করবে না।
একইভাবে, যদি ছোট মেয়েরা ছেলেদের মতো চুল কাটে বা ছেলেদের মতো স্টাইল গ্রহণ করে, তাহলে সে বড় হয়ে পুরুষদের মতো আচরণে অভ্যস্ত হতে পারে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের অনুকরণকারী নারীদের এবং নারীদের অনুকরণকারী পুরুষদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন।
সুতরাং, ছোট বয়স থেকেই মেয়েদের পোশাক ও আচরণে শালীনতা শেখানো এবং তাদের চুলের স্টাইল এমনভাবে রাখা উচিত, যা নারীর সৌন্দর্য ও পরিচয়কে তুলে ধরে।
পরিবারের প্রধান বা অভিভাবক হিসেবে, বাবা ও মা উভয়েরই দায়িত্ব সন্তানদের ইসলামের শিক্ষায় সুশিক্ষিত করা এবং তাদের জীবনধারায় শালীনতা ও পরিশুদ্ধতা গড়ে তোলা। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“একজন পুরুষ তার পরিবারের প্রধান এবং তার অধীনস্থদের জন্য সে দায়বদ্ধ।”
অতএব, শিশুরা যখন ছোট থাকে তখনই তাদের সঠিকভাবে শেখানো, শালীন পোশাক পরিধান করানো এবং ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী জীবনধারা শেখানো জরুরি, যাতে তারা বড় হয়ে ইসলামের সুন্দর আদর্শের ধারক ও বাহক হতে পারে।
